উপক্রমণিকাঃ বাংলাদেশের হেমাটোলজির পথিকৃৎ মরহুম অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে ৩১/০৮/১৯৯৯ ইং তারিখে প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ সোসাইটি অব হেমাটোলজি’ই আজকের ‘হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ’। এই সোসাইটি বাংলাদেশের সকল হেমাটোলজিস্টের প্রতিনিধিত্বকারী ও মুখপাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর এদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে এবং তা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য দ্রুতগতিতে অগ্রসরমান থাকলেও এখনও জনসচেতনতা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষার অপ্রতুলতা এবং দারিদ্র্যের কারণে এদেশের বেশিরভাগ মানুষ রক্ত সম্পর্কিত রোগের সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেনা। হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ’র সকল প্রচেষ্টা থাকবে এদেশের হেমাটোলজিস্টদের সংহতি, স্বার্থ ও সম্মান বজায় রেখে রক্ত সম্পর্কিত রোগের প্রকৃতি ও ব্যাপকতা এবং তার প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা, এদেশের রক্ত সম্পর্কিত রোগের রোগীদের একটি একটি একক মঞ্চ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে যথোপযুক্ত সেবা প্রদান করা, বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থার অধিকতর উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মান অর্জনে যথাযথ ভূমিকা গ্রহণ করা এবং এদেশের চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী ও জনগণকে রক্তবিদ্যা বিষয়ক প্রয়োজনীয় পুঁজি, জ্ঞান ও উদ্যোগের সংস্থান করা।

ধারা-০১: সংগঠনের নামঃ এই সোসাইটির পুর্ণ নাম বাংলা ও ইংরেজিতে ‘হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ’ (HAEMATOLOGY SOCIETY OF BANGLADESH)।

ধারা-০২: ভাষাঃ সোসাইটির দুইটি অফিসিয়াল ভাষা থাকবেঃ বাংলা ও ইংরেজি। এই গঠনতন্ত্রের বাংলা ও ইংরেজি ভাষান্তরে অর্থগত কোন পার্থক্য থাকলে বাংলা অর্থ গৃহীত হবে।

ধারা-০৩: নিবন্ধিত অফিস সোসাইটির রেজিষ্টার্ড অফিস ঢাকায় অবস্থিত থাকবে।

ধারা-০৪: লোগোঃ নিচের রঙ্গিন প্রতীকটি সাধারণভাবে সোসাইটির তাৎক্ষণিক পরিচিতি ও সনাক্তিকরন চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এই প্রতীকে রয়েছে মানুষের রক্তের আণুবীক্ষণিক চিত্রের পটভূমিতে দাঁড়ানো একটি ছড়ি যাকে পেঁচিয়ে আছে একটি সাপ ও মাথায় রয়েছে রক্তের একটি ফোঁটা; তার দুই পার্শ্বে দুইটি শস্য মঞ্জুরি ও নীচে ইংরেজিতে HAEMATOLOGY SOCIETY OF BANGLADESH Established : 1999 কথাগুলো গোলাকারে পরিবেষ্টন করে আছে।

ধারা-০৫: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ সোসাইটির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিম্নরূপ-

(০১) এই সোসাইটি বাংলাদেশের রক্তরোগ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ঐক্য, সংহতি, সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বমূলক সহযোগিতার চেতনা স্থাপন করতে ও তা বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকবে।

(০২) এই সোসাইটি বাংলাদেশের রক্তরোগ বিশেষজ্ঞদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় তাদের স্বার্থ, অধিকার ও সুবিধাসমুহ প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ করতে সচেষ্ট থাকবে।

(০৩) এই সোসাইটি বাংলাদেশী জনগণের মধ্যে রক্তের বিভিন্ন রোগের প্রকৃতি ও প্রকোপ, তাদের প্রতিকার ও প্রতিরোধের বিষয়ে সাধারণ ধারণা দিবে ও সচেতনতা তৈরি করবে।

(০৪) এই সোসাইটি বাংলাদেশের জনগণকে হেমাটোলজি বা রক্তরোগ বিষয়ে সচেতন করবে যে এটি বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা শাস্ত্রের একটি স্বকীয় ও পুর্নাঙ্গ শাখা এবং কেবলমাত্র হেমাটোলজিস্ট বা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞগনই রক্তের রোগসমূহের সর্বোত্তম চিকিৎসা দিতে সক্ষম।

(০৫) এই সোসাইটি একান্ত আপন কর্তব্য বিবেচনায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আস্থার সাথে রক্তসম্পর্কিত রোগীদের জন্য চিকিৎসা সেবার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে সচেষ্ট থাকবে।

(০৬) এই সোসাইটি বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষার ধারাবাহিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রক্তরোগের উপর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন ও যোগান দিবে।

(০৭) এই সোসাইটি রক্তরোগ চিকিৎসায় প্রশিক্ষণের উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, সম্পদ, উদ্যোগ ও সক্ষমতার যোগান দিবে।

(০৮) এই সোসাইটি একই ধরনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনে প্রত্যাশী অন্যান্য দেশী-বিদেশি ও আন্তর্জাতিক সংগঠনকে সাহায্য ও সহযোগিতা করবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাদেরকে অধিভুক্ত করবে বা তাদের অধিভুক্ত হবে বা তাদের সাথে চুক্তি বদ্ধ হবে।

(০৯) এই সোসাইটি তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংবাদপত্র, সাময়িকী, বই-পুস্তক, পুস্তিকা, ওয়েবসাইট ইত্যাদি গণমাধ্যমকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সচেষ্ট থাকবে।

ধারা-০৬: সংজ্ঞাঃ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী না হলে নীচের শব্দ সমূহ নিম্নরূপে অর্থ বহন করবেঃ (০১) ‘সোসাইটি’ অর্থ হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ। (০২) ‘বিধি’ অর্থ এই গঠনতন্ত্রে বর্নিত বিধি সমূহ। (০৩) ‘নির্বাহি কমিটি’ অর্থ সোসাইটির নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিনিধিত্বকারী কর্তৃপক্ষ। (০৪) ‘সদস্য’ অর্থ সোসাইটির সাধারণ ও আজীবন সদস্য যা নিম্নে সংজ্ঞায়িত হয়েছে। (০৫) ‘সাধারণ পরিষদ’ অর্থ এই গঠনতন্ত্রে সংজ্ঞায়িত সোসাইটির সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। (০৬) ‘জার্নাল’ অর্থ নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত সোসাইটির নিজস্ব জার্নাল। (০৭) ‘কমিশন’ অর্থ সোসাইটির নির্বাহি কমিটি নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত নির্বাচন কমিশন।

ধারা-০৭: সদস্যঃ

উপধারা-০১: সদস্যদের শ্রেণিবিন্যাসঃ সোসাইটির সদস্যবৃন্দ নিম্নবর্নিত তিন শ্রেণির হবেন-

(০১) আজীবন সদস্যঃ তারা হলেন সোসাইটির স্থায়ী সদস্য; তারা নির্বাহি কমিটি নির্বাচন ও সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পেশকৃত প্রস্তাবে ভোট দেয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেন।

(০২) সাধারণ সদস্যঃ তারা হলেন নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সোসাটির অস্থায়ী সদস্য; তাদের মেয়াদকালিন সময়ে তারা আজীবন সদস্যের মত ভোটাধিকার সংরক্ষণ করেন।

(০৩) সহযোগী সদস্যঃ তারা হলেন সোসাইটির ঐ সমস্ত সদস্য যারা সাধারণ ও আজীবন সদস্যদের মত ভোটাধিকার সংরক্ষণ করেন না।

উপধারা-০২: সদস্য হওয়ার যোগ্যতাঃ

(০১) আজীবন সদস্যঃ যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত এবং বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত এমবিবিএস বা সমমানের স্নাতক ডিগ্রী এবং হেমাটোলজি বিষয়ে এফসিপিএস বা এমডি বা সমমানের ডিগ্রীধারী যে কোন ব্যক্তি। বাংলাদেশের বাইরে অর্জিত ডিগ্রী একই সাথে সংশ্লিষ্ট দেশের রেগুলেটরি বডি কর্তৃক স্বীকৃত হতে হবে।

(০২)  সাধারণ সদস্যঃ আজীবন সদস্য হওয়ার জন্য বর্নিত একই ধরনের যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি।

(০৩)  সহযোগী সদস্যঃ হেমাটোজি বিষয়ের প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত যে কোন চিকিৎসক বা হেমাটোলজি বা তদসম্পর্কিত বিষয়ের স্নাতকোত্তর ছাত্র অথবা যে কোন সমাজসেবী ব্যক্তি যিনি বাংলাদশের হেমাটোলজির উন্নয়নে ভূমিকা  রাখতে পারেন।

উপধারা-০৩: সদস্যদের প্রাধিকারঃ   এক জন সদস্য নিম্নবর্নিত অধিকার ও সুবিধা সমূহ প্রাপ্ত হবেন-

(০১) বিনামূল্যে বা সোসাইটি কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে সোসাইটির প্রকাশনা সমূহ পাওয়ার অধিকার।

(০২) সোসাইটির পাঠাগার বা লাইব্রেরী ব্যবহারের অধিকার।

(০৩) সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত ক্লিনিক্যাল মিটিং, বক্তৃতা ও প্রদর্শনী এবং অন্যান্য একাডেমিক বা সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের অধিকার।

(০৪) সোসাইটি কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য প্রাধিকার সমূহ।

উপধারা-০৪: সদস্যদের দায়িত্বঃ একজন সদস্য তার মেয়াদকালীন সময়ে সোসাইটির বিধি-বিধানের আওতাধীন থাকবেন, এবং ঋণ ও দায় সহ সোসাইটির সম্পদ বৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণে অংশগ্রহণ করবেন।

উপধারা-০৫: সদস্য পঞ্জিঃ সোসাইটির সকল সদস্যের নাম, যোগ্যতা, ঠিকানা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে একটি সদস্য পঞ্জি থাকবে।

উপধারা-০৬: সদস্যভুক্তিঃ নির্বাহি কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত ফি পরিশোধ পুর্বক এবং সদস্যপদের শ্রেণি ও মেয়াদ উল্লেখ পুর্বক একজন উপযুক্ত ব্যক্তি নির্ধারিত ফর্মে বা নির্বাহি কমিটি নির্দেশিত পন্থায় সদস্যভুক্তির আবেদন করবেন এবং তার সদস্যভুক্তি নির্বাহি কমিটি কর্তৃক অনুমোদনের পর কার্যকর হবে।

উপধারা-০৭: সদস্য পদের মেয়াদকালঃ সদস্যভুক্তির শ্রেণী ও মেয়াদ এবং নিম্নের বিধি অনুযায়ী সদস্যপদ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত একজন সদস্যের সদস্যপদ বহাল থাকবে। নিম্নলিখিত তিন কারণে একজন সদস্যের সদস্যপদের সমাপ্তি হতে পারে-

(০১) পাওনা পরিশোধে ব্যর্থতাঃ নির্ধারিত দিনের পর তিন মাসের মধ্যে চাঁদা বা দায়ের হিস্যা পরিশোধে ব্যর্থ হলে নির্বাহি কমিটি কোন সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করতে পারবে; তবে সদস্যপদ বাতিলের পুর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার পাওনা পরিশোধের জন্য কমপক্ষে ৩০ দিনের সুযোগ দিয়ে নোটিশ দিতে হবে।

(০২) অসদাচরণ জনিতঃ কোন সদস্যের কার্যকলাপ বিএমডিসির বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বা সোসাইটির জন্য ক্ষতিকারক বিবেচিত হলে নির্বাহি কমিটি সংশ্লিষ্ট সদস্যের কাছে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের ব্যাখ্যা চাইবে। সংশ্লিষ্ট সদস্যের প্রদত্ত ব্যাখ্যা নির্বাহি কমিটির নিকট সন্তোষজনক প্রতীয়মান না হলে নির্বাহি কমিটি তাকে ক্ষমা প্রার্থনা অথবা সোসাইটি থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিতে পারে। উক্ত সদস্য আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যাখ্যা প্রদান বা ক্ষমা প্রার্থনা বা পদত্যাগ করতে অস্বীকার করলে নির্বাহি কমিটি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করবে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাহি কমিটি সংশ্লিষ্ট সদস্যকে সোসাইটি থেকে বহিষ্কার বা অন্য কোন শাস্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

 (০৩) পদত্যাগজনিতঃ এক জন সদস্য তার সমস্ত পাওনা পরিশোধ পূর্বক যে কোন সময় সভাপতি বরাবরে ৩০ দিনের নোটিশ প্রদান সাপেক্ষে সোসাইটি থেকে পদত্যাগ করতে পারেন এবং পাওনা পরিশোধ সাপেক্ষে নির্বাহি কমিটি তার পদত্যাগ বিবেচনা করবেন।

উপধারা-০৮: সদস্য পদের পুনর্বহালঃ কোন ব্যক্তি নিম্নলিখিত উপায়ে তার হৃত সদস্যপদ ফিরে পেতে পারেন-

(০১) পাওনা পরিশোধে ব্যর্থতা জনিত কারণে সদস্যপদ বাতিল হলে তার পাওনা সমূহ পরিশোধ সাপেক্ষে কোন ব্যক্তিকে তার সদস্য পদ বাতিলের তারিখ থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সদস্যপদ বহাল করা যেতে পারে।

(০২) পদত্যাগকৃত কোন ব্যক্তিকে পদত্যাগ বিষয়ে নির্বাহি কমিটির নিকট সন্তোষজনক কারণ ব্যাখ্যা বা ক্ষমা প্রার্থনা এবং পাওনা থাকলে পাওনা পরিশোধ সাপেক্ষে সদস্যপদ পুনর্বহাল করা যেতে পারে।

(০৩) অসদাচরণ জনিত কারণে সদস্যপদ বাতিলের কমপক্ষে পাঁচ বছর পর অথবা অন্তর্বর্তী কালীন সময়ে সন্তোষজনক আচরণের সমর্থনে কমপক্ষে দশ জন আজীবন সদস্যের সুপারিশ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সদস্যপদ পুনর্বহাল করা যেতে পারে।

ধারা-০৮: সাধারণ পরিষদঃ উপধারা-০১: সাধারণ পরিষদের গঠনঃ সকল আজীবন ও সাধারণ সদস্যবৃন্দের সমন্বয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত হবে। উপধারা-০২: সাধারণ পরিষদের কাজ ও ক্ষমতাঃ সোসাইটির প্রতিটি ব্যাপারে আলোচনা, দিকনির্দেশ প্রদান ও তা বিধিবদ্ধ করার জন্য সাধারণ পরিষদ হচ্ছে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কর্তৃপক্ষ। এই কর্তৃপক্ষ নিম্নের বিষয় সমূহের ব্যাপারে ক্ষমতাপ্রাপ্ত- (০১) সোসাইটির সকল আইন ও বিধি তৈরি, পরিবর্তন ও বাতিল করা। (০২) নির্বাহি কমিটির সদস্যদের নির্বাচন করা। (০৩) এই গঠনতন্ত্রে থাকুক বা না থাকুক এমন যে কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। (০৪) সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত যে কোন সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং নির্বাহি কমিটির জন্য তা অবশ্য পালনীয় বলে গণ্য হবে। উপধারা-০৩: সাধারণ পরিষদের সভাঃ সাধারণ পরিষদের সভা নিম্নরূপ দুই ধরণের হতে পারে- (০১) সাধারণ সভাঃ নির্বাহি কমিটি কর্তৃক বিধি সম্মত ভাবে আহুত সময়, তারিখ ও স্থানে যেকোন বিষয়ে সাধারণ পরিষদ সভায় মিলিত হবে। (০২) তলবি সভাঃ নির্বাহি কমিটি কোন গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে সভা আহ্বানে ব্যর্থ হলে কমপক্ষে দশ জন সদস্য একত্রে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতঃ তলবি সভা আহ্বান করতে পারবেন। উপধারা-০৪: সাধারণ পরিষদের সভার বিজ্ঞপ্তিঃ সময়, স্থান, সময় ও তারিখ এবং আলোচ্য সূচি উল্লেখ করতঃ সকল সদস্যকে সাধারণ সভার ক্ষেত্রে কমপক্ষে পনেরো দিন পুর্বে এবং তলবি সভার ক্ষেত্রে কমপক্ষে তিরিশ দিন পুর্বে নোটিশ প্রদান করতে হবে। এই নোটিশ জাতীয় প্রচার মাধ্যম, জার্নাল, ডাক, ইমেইল, বার্তাবাহক, কিংবা সময় ও ব্যয়ের বিচারে উপযুক্ত অন্য যেকোন উপায়ে দেয়া যেতে পারে। জাতীয় প্রচার মাধ্যম ব্যতীত অন্য সকল উপায়ে নোটিশ পাঠানোর ক্ষেত্রে সদস্য পঞ্জিতে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট সদস্যের সর্বশেষ ঠিকানা বা ফোন নম্বর ব্যবহৃত হবে। উপধারা-০৫: সাধারণ পরিষদের সভার কোরামঃ সাধারণ সভার জন্য সোসাইটির সদস্যদের কমপক্ষে অর্ধেক এবং তলবি সভার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য উপস্থিত থাকলে কোরাম পুর্ণ হবে। কোরাম পুর্ণ না হলে সাধারণ সভা স্থগিত হবে এবং পরবর্তিতে অনুষ্ঠানের জন্য সভাস্থলেই স্থান, তারিখ ও সময় ঘোষণা করতে হবে; তবে তলবি সভা কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই বাতিল বলে গণ্য হবে। উপধারা-০৬: সাধারণ পরিষদের সভার আলোচ্য বিষয়ঃ (০১) নির্বাহি কমিটির নির্বাচন, প্রয়োজনবোধে। (০২) বিগত সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত সমূহ অনুমোদন। (০৩) সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক উপস্থাপিত বিগত বছরের বার্ষিক বিবরণ অনুমোদন। (০৪) কোষাধ্যক্ষ কর্তৃক উপস্থাপিত বিবরণ ও নিরীক্ষিত হিসাব অনুমোদন। (০৫) পরবর্তী বছরের বাজেট আলোচনা ও অনুমোদন। (০৬) যেকোন একক সদস্য বিশেষ কর্তৃক আনীত বিষয় বা প্রস্তাবের উপর আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ। (০৭) সভাপতির অনুমোদন ক্রমে অন্য যেকোন বিষয়ের উপর আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ। উপধারা-০৭: সাধারণ পরিষদের সভার সাধারণ বিধি সমূহঃ (০১) যথাযথ ভাবে প্রচারিত হয় নাই এমন কোন বিষয় সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা চলবে না। সদস্য বিশেষ কর্তৃক আনিত কোন আলোচনা প্রস্তাব সভার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই সাধারণ সম্পাদকের নিকট পেশ করতে হবে। যে বিষয়ের জন্য তলবি সভা আহ্বান করা হয়েছে কেবল মাত্র সেই বিষয় ছাড়া অন্য কোন বিষয় তলবি সভায় আলোচনা করা যাবে না। (০২) সাধারণ সভার ক্ষেত্রে উপস্থিত সদস্যদের সাধারণ সংখ্যা গরিষ্ঠতা ও তলবি সভার ক্ষেত্রে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। (০৩) কোন বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত বা মীমাংসা না হলে পরবর্তি ছয় মাসের মধ্যে অথবা কমপক্ষে দশ জন সদস্য পুনর্বিবেচনার আহ্বান না জানালে ঐ বিষয়ের উপর আর কোন আলোচনা করা চলবে না। (০৪) সাধারণ পরিষদের কোন সভায় আলোচ্য বিষয় ও সিদ্ধান্ত সমূহ যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং সোসাইটির সভাপতি পরবর্তী সভায় তার উপস্থাপন নিশ্চিত করবেন। (০৫) উপস্থিত সদস্যদের অর্ধেকের বেশী সংখ্যক সদস্য সম্মত হলে সভার সভাপতি সভা মুলতবি ঘোষণা করতে পারেন এবং পরবর্তী  সভায় কেবলমাত্র অসম্পুর্ন বিষয়গুলিই আলোচিত হবে। (০৬) নির্বাহি কমিটির কোন পদে শূন্যতা, ভুল নিয়োগ বা নির্বাচনের কারণে কিংবা অসাবধানতা বশতঃ সোসাইটির কোন সদস্যের নিকট সভার নোটিশ না পৌঁছানোর কারণে কোন সভা বাতিল হবে না।

ধারা-০৯: উপদেষ্টা পরিষদঃ বয়জেষ্ঠ্য, গুরুত্বপুর্ন বা অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিবৃন্দের সমন্বয়ে অনধিক সাত সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে।

উপধারা-০১: উপদেষ্টা পদে মনোনয়নঃ নির্বাহি কমিটি কর্তৃক উপদেষ্টাবৃন্দ মনোনীত হবেন। এই পদে হেমাটোলজি বা তদসংশ্লিষ্ট বিষয়ের কোন বয়োজ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বা সমমর্যাদা সম্পন্ন চিকিৎসক অথবা হেমাটোলজির প্রতি অনুরক্ত ও এর উন্নতি সাধনে ভূমিকা  রাখতে পারেন এমন কোন ব্যক্তি বা সমাজসেবীকে বাছাই করতে হবে।

উপধারা-০২: উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব ও কর্ম পরিধিঃ

(০১) উপদেষ্টাবৃন্দ সোসাইটির কর্মকান্ডের মূল্যায়ন করবেন, সোসাইটির উত্তরোত্তর উন্নতি সাধনের জন্য তাদের মতামত ও দিক-নির্দেশনা দিবেন এবং সোসাইটির কার্যক্রমে তাদের সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা করবেন।

(০২) উপদেষ্টাবৃন্দ নির্বাহি কমিটির সিদ্ধান্ত ও অনুরোধক্রমে যেকোন সভায় উপস্থিত থেকে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন।

(০৩) উপদেষ্টাবৃন্দ কোন সভায় উপস্থিত থাকলে তিনি কোরামের হিসাবে গণ্য হবেন না এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভোট দিতে পারবেন না; তবে তিনি সোসাইটির সদস্য হলে সাধারণ পরিষদের সভায় ভোটাধিকার বলবত থাকবে।

ধারা-১০: নির্বাহি কমিটিঃ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নির্দেশিত সোসাইটির নীতি ও কর্মসুচী বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ও তার প্রতিনিধিত্বমূলক কর্তৃপক্ষ হচ্ছে নির্বাহি কমিটি।

উপধারা-০১: নির্বাহি কমিটির কর্তব্য ও ক্ষমতাঃ

(০১) নির্বাহি কমিটি সোসাইটি বা চিকিৎসা পেশার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোন বিষয় সরকার বা কোন সরকারি বা বিধিবদ্ধ সংস্থার নিকট সোসাইটির প্রতিনিধিত্ব করবে।

(০২) নির্বাহি কমিটি সোসাইটিকে সঠিক ভাবে গতিশীল রাখতে, সোসাইটির অফিস, পাঠাগার ও সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করতে, এবং সোসাইটির প্রকাশনা প্রস্তুত ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা তৈরি ও জারী করবে।

(০৩) নির্বাহি কমিটি কোন ব্যক্তির সদস্যভুক্তির আবেদন বা কোন সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা জনিত প্রশ্নে বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, এবং ন্যায্যতার স্বার্থে কোন সদস্যের বকেয়া বা দেনা আংশিক বা সম্পুর্ন মার্জনা করতে পারবে।

(০৪) নির্বাহি কমিটি সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গঠিত হয় নাই এমন কোন কমিটি বা সাব-কমিটি নিয়োগ করতে পারবে এবং সোসাইটির লক্ষ্য অর্জনের জন্য তা করবে।

(০৫) নির্বাহি কমিটি সাধারণ পরিষদের নিকট পেশ ও অনুমোদনের জন্য গঠনতন্ত্রের কোন বিধি রচনা, পরিবর্তন বা বাতিলের প্রস্তাব তৈরি করতে পারবে।

(০৬) নির্বাহি কমিটি সোসাইটির কোন বেতন ভুক্ত কর্মচারি নিয়োগ করতে বা তার নিয়োগ বাতিল করতে পারবে এবং সোসাইটির লক্ষ্য অর্জনের জন্য তা করবে।

(০৭) নির্বাহি কমিটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার সকল বিষয়ে অর্থ ও লজিস্টিক সহ নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে।

(০৮) সোসাইটির লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় অনুমোদন করবে ও তার ক্ষমতা নির্বাহি কমিটির থাকবে।

(০৯) নির্বাহি কমিটি সোসাইটির লক্ষ্য অর্জনের জন্য বর্নিত বিষয় ছাড়াও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিধি সম্মত ক্ষমতার ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদন করবে।

উপধারা-০২: নির্বাহি কমিটির গঠনঃ নিম্নবর্ণিত ২৩ (তেইশ) টি পদের সমন্বয়ে নির্বাহি কমিটি গঠিত হবে-

(০১) সভাপতি- ১ জন

(০২) সহ-সভাপতি- ২ জন

(০৩) সাধারণ সম্পাদক- ১ জন

(০৪) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- ২ জন

(০৫) কোষাধ্যক্ষ- ১ জন

(০৬) সাংগঠনিক সম্পাদক- ১ জন

(০৭) বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক- ১ জন

(০৮) আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক- ১ জন

(০৯) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক- ১ জন

(১০) দপ্তর সম্পাদক- ১ জন

(১১) সদস্য- ১১ জনঃ (ক) নির্বাচিত- ৭ জন, (খ) মনোনীত ও পদাধিকারে- ৪ জন

উপধারা-০৩: নির্বাহি কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব ও ক্ষমতাঃ

(০১) সভাপতিঃ

(ক) সভাপতি সাধারণ পরিষদ ও নির্বাহি কমিটির সকল সভায় সভাপতিত্ব করবেন, তবে তা একাডেমিক বা বৈজ্ঞানিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও সম্মেলনের ক্ষেত্রে অপরিহার্য নয়।

(খ) সভাপতি নির্বাহি কমিটির পরামর্শে সোসাইটির কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করবেন।

(গ) সভাপতি সভার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিধি-বিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করবেন।

(ঘ) সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান সংখ্যক ভোটের ক্ষেত্রে নিজের নিয়মিত ভোটের অতিরিক্ত একটি ভোট প্রদান করতঃ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারবেন।

(০২) সহ-সভাপতিঃ

(ক) সভাপতির অনুপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, তার অনুপস্থিতিতে কনিষ্ঠ সহ-সভাপতি সভার সভাপতিত্ব করবেন।

(খ) প্রয়োজনীয় মুহুর্তে সভাপতির অনুপস্থিতি বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, তার একই কারণের ক্ষেত্রে কনিষ্ঠ সহ-সভাপতি, তার একই কারণের ক্ষেত্রে নির্বাহি কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে নির্বাহি কমিটির যেকোন একজন সদস্য, সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

(গ) যেকোন কারণে সভাপতির দীর্ঘ অনুপস্থিতি বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, তার একই কারণের ক্ষেত্রে কনিষ্ঠ সহ-সভাপতি, নির্বাহি কমিটির কার্যকালের বাকি সময়ের জন্য নির্বাহি কমিটি কর্তৃক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হবেন।

(০৩) সাধারণ সম্পাদকঃ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকবৃন্দের সহায়তায় সাধারণ সম্পাদক নীচের দায়িত্ব সমূহ পালন করবেন-

(ক) তিনি হচ্ছেন অফিস প্রধান এবং অফিসের যাবতীয় যোগাযোগ রক্ষা করবেন।

(খ) তিনি যাবতীয় সভা, সম্মেলন, লেকচার, প্রদর্শন ইত্যাদি আয়োজন ও আহ্বান করবেন।

(গ) তিনি কোষাধ্যক্ষের নিকট রক্ষিত আয়-ব্যয়ের হিসাব তত্বাবধান করবেন এবং খরচের জন্য যাবতীয় বিল অনুমোদন ও চেক সই করবেন।

(ঘ) তিনি সাধারণ পরিষদের সভায় পেশ ও অনুমোদনের জন্য কোষাধ্যক্ষের সহযোগিতায় বার্ষিক বাজেট ও আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন।

(ঙ) তিনি সোসাইটির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোন বিষয়ে নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তের জন্য নির্বাহি কমিটির সভায় পেশ করবেন।

(০৪) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকঃ

(ক) সাধারণ সম্পাদকের যাবতীয় কাজে সহযোগিতা করবেন।

(খ) সাধারণ সম্পাদকের দীর্ঘ অনুপস্থিতি বা অক্ষমতায় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তার একই কারণে কনিষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন।

(০৫) কোষাধ্যক্ষঃ

(ক) তিনি সোসাইটির হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন, হিসাব সমূহের নগদায়ন করবেন এবং নির্ধারিত নিরীক্ষক কর্তৃক নিরীক্ষণের ব্যবস্থা করবেন।

(খ) সকল অর্থ কোষাধ্যক্ষের নিকট জমা হবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যয়ের জন্য চেক সই করবেন।

(গ) সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক পেশকৃত ব্যয়ের হিসাবে ভুলত্রুটি বা অসামঞ্জস্য লক্ষ্য রাখবেন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠাবেন। ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদকের সাথে দ্বিমত থাকলে বিষয়টি সুরাহার জন্য সভাপতির নিকট পেশ করবেন।

(ঘ) নির্বাহি কমিটিতে পেশ করার জন্য নিয়মিত সময়ান্তর সোসাইটির হিসাব বিবরণ প্রস্তুত করবেন এবং সাধারণ সভায় পেশ ও অনুমোদনের জন্য বার্ষিক হিসাব ও স্থিতিপত্র তৈরি করবেন।

(০৬) সাংগঠনিক সম্পাদকঃ

(ক) সোসাইটির সকল সদস্যের একটি হালনাগাদ সদস্য পঞ্জি সংরক্ষণ করবেন এবং সদস্যদের সদস্যভুক্তির অর্থ সংগ্রহ করবেন।

(খ) সোসাইটির উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সোসাইটি সংগঠনে সাধারণ সম্পাদককে সহযোগিতা করবেন।

(০৭) বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদকঃ সোসাইটির সকল বৈজ্ঞানিক, একাডেমিক ও শিক্ষামূলক কর্মকান্ডের ব্যবস্থাপনা করবেন ও সচল রাখবেন।

(০৮) আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকঃ সোসাইটির উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের স্বার্থে বহির্বিশ্বের সাথে সকল ধরনের যোগাযোগ ও তৎপরতা বজায় রাখবেন।

(০৯) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকঃ পুস্তক, পুস্তিকা, সংবাদ ও জার্নাল সহ সোসাইটির সকল প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক ডকুমেন্ট প্রকাশ ও প্রচারের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন ও সেসবের ব্যবস্থাপনা করবেন।

(১০) দপ্তর সম্পাদকঃ অফিসের সকল ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করবেন এবং সাধারণ পরিষদ ও নির্বাহি কমিটির সকল সভার কার্যক্রম রেকর্ড করবেন।

উপধারা-০৪: নির্বাহি কমিটির সভার বিধি ও কার্য প্রণালিঃ

(০১) নির্বাহি কমিটি সর্বোচ্চ তিন মাস অন্তর একবার সভায় মিলিত হবে।

(০২) সভার আলোচ্য বিষয়, সময়, তারিখ ও স্থান উল্লেখ করতঃ কমপক্ষে সাত দিন পুর্বে কমিটির সকল সদস্যকে জানাতে হবে। তবে অতীব কোন জরুরী মুহুর্তে সভাপতি ২৪ ঘন্টার নোটিশে নির্বাহি কমিটির সভা আহ্বান করতে পারেন।

(০৩) সভার কোরামের জন্য নির্বাহি কমিটির সদস্যবৃন্দের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য উপস্থিত থাকতে হবে।

(০৪) সভায় যে কোন বিষয় সভাপতির অনুমতি সাপেক্ষে পেশ করতে হবে।

(০৫) সভার কার্যক্রম সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও তা পরবর্তি সভায় উপস্থাপন নিশ্চিত করতে হবে।

(০৬) প্রয়োজনবোধে সভাপতি উপস্থিত সদস্যদের বেশিরভাগের সম্মতি সাপেক্ষে সভা মুলতবি রাখতে পারবেন; মুলতবি সভায় কেবলমাত্র অসম্পুর্ন বিষয় সমূহ আলোচিত হবে।

(০৭) কোন সদস্য বিশেষের প্রস্তাবনা সভায় উপস্থাপনের জন্য কমপক্ষে দুই দিন পুর্বে সাধারণ সম্পাদকের নিকট পেশ করতে হবে।

(০৮) কোন প্রস্তাবনার পক্ষে বিপক্ষে সমান সংখ্যক সদস্যের ভোটের ক্ষেত্রে সভাপতি নিজের অতিরিক্ত আরেকটি ভোট প্রদান করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারবেন।

ধারা-১১: নির্বাহি কমিটির নির্বাচনঃ উপধারা-০১: নির্বাচন কমিশনঃ নির্বাহি কমিটির নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি নির্বাচন কমিশন কমিশন থাকবে যা তিন বা ততোধিক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে। কমিশনের সদস্যবৃন্দ নির্বাহি কমিটি কর্তৃক মনোনীত হবেন এবং তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সদস্য এর চেয়ারম্যান হবেন। কমিশন নির্বাচনী কাজে স্বাধীন থাকবে এবং নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে। কেবলমাত্র পদত্যাগ জনিত কারণে অথবা সাধারণ পরিষদ কর্তৃক সিদ্ধান্তক্রমে কমিশনের কোন সদস্য প্রত্যাহৃত হতে পারবেন। উপধারা-০২: কমিশন গঠনে বাধ্যবাধকতাঃ নির্বাহি কমিটি দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হবে। নির্বাহি কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে দুই মাস পুর্বে সভাপতি কমিশন গঠনের জন্য নির্বাহি কমিটির সভার আয়োজন করবেন। তার ব্যর্থতায় জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি পরবর্তি দেড় মাসের মধ্যে উক্ত সভার আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবেন। জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতির একই রূপ ব্যর্থতায় কনিষ্ঠ সহ-সভাপতি পরবর্তি দেড় মাসের মধ্যে উক্ত সভার আয়োজন করবেন। এইভাবে পর্যায়ক্রমে সভাপতি ও উভয় সহ-সভাপতি উক্ত সভা আয়োজনে ব্যর্থ হলে কিংবা নির্বাহি কমিটি কমিশন গঠনে ব্যর্থ হলে নির্বাহি কমিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং এমতাবস্থায় সোসাইটির যেকোন দশ জন সদস্য কমিশন গঠনের জন্য সাধারণ পরিষদের তলবি সভা আহ্বান করতে পারবেন। উপধারা-০৩: ভোটার তালিকাঃ সদস্য পঞ্জিতে প্রাপ্ত সকল আজীবন ও সাধারণ সদস্য সমন্বয়ে ভোটার তালিকা তৈরি হবে এবং নির্বাচনের কমপক্ষে ৪৫ দিন পুর্বে কমিশন ভোটার তালিকা ঘোষণা করবে। উপধারা-০৪: কর্মকর্তা পদের যোগ্যতাঃ (০১) কর্মকর্তা পদ সমূহ কেবলমাত্র আজীবন সদস্যবৃন্দের জন্যই সংরক্ষিত থাকবে এবং এই রূপ পদে অধিষ্ঠানের জন্য মনোনয়ন জমাদানের তারিখের কমপক্ষে এক বছর পুর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সোসাইটির সদস্য হতে হবে। (০২) সোসাইটির তহবিল থেকে বেতন বা সম্মানী প্রাপ্ত কোন ব্যক্তি নির্বাহি কমিটির কর্মকর্তা পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না। (০৩) মনোনয়ন পত্র জমাদানের সময় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থীকে যথাক্রমে দশ ও আট বছর পুর্বে হেমাটোলজিতে ডিগ্রি প্রাপ্ত হতে হবে। (০৪) সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি পর পর দুই মেয়াদের বেশী একই পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কমপক্ষে দুই মেয়াদ পর একই পদে প্রার্থী হতে পারবেন। (০৫) কমিশনের সদস্যবৃন্দ তার অধীন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। উপধারা-০৫: নির্বাচন প্রক্রিয়াঃ (০১) নির্বাচনি বিজ্ঞপ্তিঃ নির্বাচনের তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ পুর্বক কমিশন সকল সদস্যকে নির্বাচনের কমপক্ষে ৪৫ দিন পুর্বে সাধারণ সভার নির্ধারিত মাধ্যমে অবগত করবেন। (০২) প্রার্থিতা ও প্রার্থী তালিকাঃ নির্ধারিত আবেদন পত্রে একজন সদস্যের প্রস্তাব ও অপর একজন সদস্যের সমর্থন সহ এক জন যোগ্য সদস্য কর্মকর্তা পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন এবং তা নির্বাচনের তারিখের কমপক্ষে ৩০ দিন পুর্বে কমিশনের নিকট পৌঁছতে হবে। কমিশন প্রার্থিতা যাচাই পুর্বক যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা নির্বাচনের কমপক্ষে ২৫ দিন পুর্বে প্রকাশ করবেন। নির্বাচনের কমপক্ষে ২০ দিন পুর্বে একজন প্রার্থী নির্ধারিত আবেদন পত্রের মাধ্যমে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। নির্বাচনের তারিখের কমপক্ষে ১৫ দিন পুর্বে কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। (০৩) ভোট গ্রহণের স্থান ও সময়ঃ কমিশন যেভাবে ঘোষণা করবে তদনুযায়ী সাধারণ পরিষদের সভাস্থলে অথবা অন্য কোন স্থানে ও সময়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। (০৪) ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াঃ কর্মকর্তাবৃন্দের নির্বাচন শুধুমাত্র গোপন ব্যালটে ভোটের মাধ্যমেই করতে হবে। ভোটারবৃন্দ ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে অথবা দূরের ভোটারদের ক্ষেত্রে কমিশন ঘোষিত ও নির্ধারিত ডাকযোগে বা উপযুক্ত অন্য কোন প্রক্রিয়ায় ভোট প্রদান করতে পারবেন এবং এই রূপ দূরের ভোট সমূহ ভোট গ্রহণ সমাপ্তির সময়ের পুর্বেই কমিশনের নিকট পৌঁছতে হবে। (০৫) মনোনীত ও পদাধিকারে সদস্যঃ সোসাইটির কর্মপরিকল্পনা ও কর্মসুচি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে চার জন মনোনীত সদস্য থাকবেন, যাদের মধ্যে অব্যবহিত পুর্ব কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকারে এবং বাকি সদস্য বৃন্দ নির্বাহি কমিটি কর্তৃক মনোনীত হবেন। (০৬) জ্যেষ্ঠতা নির্ধারনঃ যে সব পদে একাধিক ব্যক্তি নির্বাচিত বা মনোনীত হবেন তাদের মধ্যকার জ্যেষ্ঠতা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবৃন্দের হেমাটোলজিতে ডিগ্রী অর্জনের তারিখের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। (০৭) নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষকে অবগতকরনঃ নির্বাচন কমিশন নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষের নিকট অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে দাখিল করবেন। উপধারা-০৬: নির্বাচনি বিবাদঃ (০১) নির্বাচন কেন্দ্রিক বিবাদ মিটানোর জন্য সদ্য বিদায়ী সভাপতি, সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক ও কমিশনের চেয়ারম্যান সমন্বয়ে একটি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল থাকবে; তবে কোন সদস্য সংশ্লিষ্ট বিবাদে জড়িত থাকলে তিনি উক্ত ট্রাইব্যুনালের সদস্য হতে পারবেন না এবং এরূপ ক্ষেত্রে সদ্য বিদায়ী নির্বাহি কমিটির জ্যেষ্ঠতম ব্যক্তি উক্ত ট্রাইব্যুনালের সদস্য হবেন। (০২) নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল সাধারণ সংখ্যা গরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে রায় ঘোষণা করবেন এবং এরূপ রায় চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

ধারা-১২: আয়, ব্যয় ও সম্পদঃ

উপধারা-০১: আয়ঃ  নিম্ন লিখিত উপায়ে আহরিত অর্থ ও স্বত্ব সোসাইটির সম্পদ বলে বিবেচিত হবে।

(০১) সদস্যভুক্তি ফি, যে কোন উৎস থেকে প্রাপ্ত মঞ্জুরি বা অনুদান, সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত পুস্তক, জার্নাল বা অন্যান্য প্রকাশনা এবং অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ।

(০২) সোসাইটি কর্তৃক বিবেচিত যেকোন ক্রীত, বন্ধকী বা ভাড়াকৃত কিংবা অন্য কোন ভাবে প্রাপ্ত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি।

(০৩) সোসাইটি কর্তৃক বিবেচিত ও বিনিয়োগকৃত যেকোন পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ।

(০৪) সোসাইটি কর্তৃক হেমাটোলজি বা এ সম্পর্কিত রোগীদেরকে বা অন্য কোন সংস্থাকে প্রদত্ত বিশেষ কোন সেবা থেকে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্মানী।

(০৫) সোসাইটির উন্নতি সাধনের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তি কর্তৃক উইলকৃত সম্পত্তি।

(০৬) সোসাইটিতে অধিভুক্ত কোন সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত নির্ধারিত ফি।

(০৭) এছাড়া নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নির্বাহি কমিটি কর্তৃক প্রাধিকার সাপেক্ষে অন্য কোন উৎস বা প্রকল্প বা কর্মসূচী থেকে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পদ।

(০৮) এই সোসাইটি বৈদেশিক সাহায্য/অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে ১৯৭৮ সালের ফরেন ডোনেশন অধ্যাদেশের বিধি বিধান অনুসরণ করবে।

উপধারা-০: ব্যয়ঃ সকল ব্যয় নির্বাহি কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। সোসাইটির ব্যয় সমূহ নিম্ন রূপ-

(০১) দৈনন্দিন অফিস খরচ, প্রকাশনা ও তদসম্পর্কিত খরচ, এবং সম্পদ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয়।

(০২) সোসাইটির কোন পুর্ণ কালীন বা খন্ড কালীন কর্মচারি বা কর্মকর্তার সম্মানী বা বেতন।

(০৩) সোসাইটির জন্য কোন ভবন ক্রয়, তৈরি, উন্নয়ন, বা মেরামত।

(০৪) সোসাইটির বৃহত্তর স্বার্থে যুক্তি সংগত ও ন্যায্য অন্য যেকোন খরচাদি।

উপধারা-০: হিসাবঃ

(০১) সকল অর্থ কোষাধ্যক্ষের নিকট জমা হবে এবং তা নির্বাহি কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত কোন তফসিলী ব্যাংক বা ব্যাংক সমূহে জমা থাকবে। এরূপ হিসাব সমূহ সোসাইটির নামে এবং সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষধ্যক্ষের মাধ্যমে যৌথভাবে পরিচালিত হবে।

(০২) নির্বাহি কমিটি সোসাইটির জার্নালের জন্য আলাদা তহবিল বা হিসাব খুলতে পারবে এবং তা জার্নালের সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষ বা সাধারণ সম্পাদক যৌথ ভাবে পরিচালিত হতে পারে।

(০৩) কোষাধ্যক্ষ বা সাধারণ সম্পাদক নিরীক্ষিত আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী সাধারণ সভায় উপস্থাপন করবেন।

উপধারা-০৪: নিরীক্ষক নিয়োগ ও নিরীক্ষণঃ সোসাইটির সকল হিসাব নিরীক্ষণের জন্য সাধারণ পরিষদ সরকার অনুমোদিত যে কোন হিসাব সংস্থা (অডিট ফার্ম) নিয়োগ করবে এবং নির্বাহি কমিটি তাদের সম্মানী নির্ধারণ করবে; কিংবা সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তা দ্বারা হিসাব নিরীক্ষা করাতে হবে। এ ধরনের হিসাব নিরীক্ষা বার্ষিক ভিত্তিতে হবে এবং নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রেরণ করতে হবে।

ধারা-১৩: জার্নালঃ সোসাইটির একটি জার্নাল থাকবে যা মনোনীত সম্পাদনা পরিষদ কর্তৃক নিয়মিত প্রকাশিত হবে। উপধারা-০১: সম্পাদনা পরিষদঃ নির্বাহি কমিটি সোসাইটির জার্নাল সম্পাদনা ও প্রকাশনার জন্য সম্পাদনা পরিষদ গঠন করবে এবং তা নির্বাহি কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে একজন সম্পাদক ও অন্যান্য সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে। উপধারা-০২: উপদেষ্টা পরিষদঃ সোসাইটির সদস্য হউন বা না হউন, একাডেমিক, পেশাগত ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা সম্পন্ন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিবৃন্দের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে যে পরিষদ জার্নালের কর্মপন্থার প্রতি নজর রাখবেন এবং সম্পাদক ও সম্পাদনা পরিষদকে একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে পরামর্শ দিবেন। উপদেষ্টাদের মনোনয়ন ও তাদের সংখ্যা নির্বাহি কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে নির্ধারিত হবে।

ধারা-১৪: অধিভুক্তিঃ এই সোসাইটি তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের স্বার্থে এবং সাধারণ পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের বাইরের যেকোন দেশীয়, আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক সমিতি, সোসাইটি বা বৈজ্ঞানিক সংগঠনের সাথে পারস্পরিকভাবে অধিভুক্ত হতে বা করতে পারবে। অধিভুক্ত বা অধিভুক্তকারী সংস্থা সমূহের সাথে চুক্তি অনুযায়ী পারস্পরিক প্রাধিকার থাকবে। একইভাবে, নির্বাহি কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী সাধারণ পরিষদ এই ধরণের অধিভুক্তিকরন চুক্তি প্রয়োজনীয় নোটিশ প্রদান সাপেক্ষে বাতিল করতে পারবে।

ধারা-১৫: গঠনতন্ত্র সংশোধন বা পরিবর্তনঃ উপধারা-০১: প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াঃ গঠনতন্ত্রের যেকোন পরিবর্তনের প্রস্তাব সাধারণ সভার কমপক্ষে তিন মাস পুর্বে সোসাইটির অফিসে পৌঁছাতে হবে। সাধারণ সভার কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ আগে উক্ত প্রস্তাব সোসাইটির সকল সদস্যকে অবগত করতে হবে। উক্ত প্রস্তাবের উপর সদস্যদের মতামত সাধারণ সভার কমপক্ষে তিন সপ্তাহ আগে সাধারণ সম্পাদকের নিকট পৌঁছাতে হবে। সাধারণ সম্পাদক উক্ত মুল প্রস্তাব এবং তার উপর সদস্যদের মতামত ও নির্বাহি কমিটির সুপারিশ সাধারণ পরিষদের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সাধারণ সভায় পেশ করবেন। উপধারা-০২: সিদ্ধান্ত গ্রহণঃ সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে গঠনতন্ত্রের যেকোন সংশোধনী বা পরিবর্তন প্রস্তাব গৃহীত হবে। গৃহীত সংশোধনী অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করতে হবে।

ধারা-১৬: সোসাইটির বিলুপ্তিঃ কোন সুনির্দিষ্ট কারণের প্রেক্ষিতে সোসাইটির মোট আজীবন সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যক সদস্য চাইলে এই সোসাইটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। বিলুপ্তিকালে সোসাইটির দায় দেনা বিষয়ে সাধারণ পরিষদ করণীয় নির্ধারন করবে এবং এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ পূর্বক বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এইরূপ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথানিয়মে নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষ বরাবর পেশ করতে হবে।

ধারা-১৭: আইন ও বিধির প্রাধান্যঃ অত্র গঠনতন্ত্রে যা কিছু উল্লেখ থাকুক না কেন ১৯৬১ সনের ৪৬ নং অধ্যাদেশের আওতায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই সোসাইটির সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে।


Comments

Constitution of Haematology Society of Bangladesh — No Comments

Leave a Reply